তদন্তে সিআইডি
চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৬-০৬-২০২৬ ০৬:১১:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৬-০৬-২০২৬ ০৬:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
ঢাকার ধানমন্ডিতে চিকিৎসক নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় তার চিকিৎসক স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তভার পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা মঙ্গলবার (১৬ জুন) মামলার আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন।
ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশীদ, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা এবং ডা. আব্দুর রশীদের জামাতা স্যাটায়ার ওয়েবসাইট ইয়ার্কির সম্পাদক সিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে এ মামলার আসামি করা হয়েছে।
অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ধীপ্রার আত্মীয় মো. মশিউর রহমান শাহ মঙ্গলবার সকালে আদালতে এ মামলার আবেদন করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমান রাখে। পরে বিকেলে অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবু শাহিন জানান, সিআইডির অ্যাডিশনাল এসপি বা তার চেয়ে উঁচু পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে অভিযোগ তদন্ত করে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন বিচারক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফরহাদ হোসেন নিয়ন এদিন অভিযোগের বিষয়ে শুনানি করেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্ক থেকে সহপাঠী ডা. রহমত রশীদকে বিয়ে করেন ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রা। তাদের সংসারে দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই ধীপ্রা পারিবারিকভাবে ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের’শিকার হচ্ছিলেন অভিযোগ করে মামলার আর্জিতে বলা হয়, “এর ফলে তিনি তীব্র বিষণ্নতায় আক্রান্ত হন। সন্তান জন্মদানের পর পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও আসামিরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অবহেলা করেন। পাশাপাশি এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে ‘ফিমেল ডক্টরস ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপে পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়ে তিনি পোস্ট করেছিলেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, গত ২ জুন থেকে টানা তিন দিন ডা. ধীপ্রাকে একটি কক্ষে তালাবন্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাকে খাবার দেওয়া হয়নি এবং দুই বছর বয়সী সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি। ৪ জুন খবর পেয়ে তার মা ধানমন্ডির বসতী গ্রীন আবাসনের একটি ফ্ল্যাটে যান। সেখানে মেয়েকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরে কক্ষ থেকে বের হয়ে চিকিৎসক ধীপ্রা তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘মা, আমি ভাত খাব’। এরপরই তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে দ্রুত কাছের কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং বিলম্বের পর বারডেম হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ধীপ্রার মৃত্যুর পর ঘটনাটি ‘ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই’একটি ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা হয় এবং দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং নিহতের বাবা-মা ধর্মভীরু ও অসহায় হওয়ায় শুরুতে আইনি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স